ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। দীর্ঘদিনের রীতি ভেঙে বঙ্গভবনের বাইরে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন সরকারের শপথ আয়োজনের প্রস্তুতি শেষ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
এদিকে, নতুন সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য ৩৬টি বাংলোবাড়ি–অ্যাপার্টমেন্ট প্রস্তুত করা হচ্ছে। এর মধ্যে ২৪টি বাংলোবাড়ি ও ১২টি অ্যাপার্টমেন্ট। একইসঙ্গে তাদের জন্য আপাতত ৩৭টি গাড়ি প্রস্তুত রেখেছে সরকারি যানবাহন অধিদপ্তর এর অধীনস্থ পরিবহন পুল।
জানা গেছে, এসব বাংলোবাড়ি–অ্যাপার্টমেন্টের অবস্থান রাজধানীর বেইলি রোড, মিন্টো রোড ও হেয়ার রোডে। এলাকাগুলো ‘মন্ত্রিপাড়া’ নামে পরিচিত।
বাংলোবাড়ি–অ্যাপার্টমেন্টগুলোর কিছু ইতিমধ্যে খালি হয়েছে। অন্যগুলোয় এখন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা, অবসরে যাওয়া বিচারপতি ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা থাকছেন।
সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে আমাদের এখানে ৩৭টি গাড়ি রেডি করে রাখা হয়েছে। আরও বেশি গাড়ির প্রয়োজন হলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানোর সঙ্গে সঙ্গে পাঠানোর ব্যবস্থা আমরা রেখেছি। আগামীকাল দুপুরের পরপরই সেগুলো জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নেওয়া হবে।
নতুন মন্ত্রিসভার শপথের জন্য প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে নতুন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সোমবার দুপুরে এক ব্রিফিংয়ে বলেন, একজন মন্ত্রী মহোদয়ের জন্য গাড়ি লাগে, একজন দেহরক্ষী থাকেন, তার বাসস্থান কোথায় হবে সেগুলোর ব্যবস্থা করতে হয়। এগুলোর জন্য সরকার সব সময়ই প্রস্তুত।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামীকাল মঙ্গলবার দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন। একইসঙ্গে শপথ নেবেন তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যরা।
দলের গুরুত্বপূর্ণ সূত্রগুলো বলছে, নতুন মন্ত্রিসভার আকার ৩৫ থেকে ৩৭ সদস্যের হতে পারে। এর মধ্যে ২৬ থেকে ২৭ জন পূর্ণ মন্ত্রী হতে পারেন। প্রতিমন্ত্রী করা হতে পারে ৯ থেকে ১০ জনকে। শেষ মুহূর্তে আরও এক বা দুজন যোগ হতে পারেন।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের আবাসন নিশ্চিত করতে মন্ত্রিপাড়ার বাংলোবাড়ি–অ্যাপার্টমেন্ট ছেড়ে দিতে কয়েকজনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কেউ কেউ বাংলোবাড়ি–অ্যাপার্টমেন্ট ছেড়ে দিয়েছেন। কেউ কেউ কয়েক দিনের মধ্যে ছেড়ে দেবেন বলে জানিয়েছেন।
সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের আবাসনের জন্য বাংলোবাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্ট প্রস্তুত করা হচ্ছে। কিছু এখন খালি আছে। বাকিগুলো শিগগির খালি হবে। বাংলোবাড়ি–অ্যাপার্টমেন্টগুলো সংস্কারে কিছু সময় লাগতে পারে। তারপর মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা উঠতে পারবেন।
যত দ্রুত সম্ভব বাংলোবাড়ি ছেড়ে দিতে অবসরে যাওয়া চারজন বিচারপতিকে গতকাল রোববার চিঠি দিয়েছে সরকারি আবাসন পরিদপ্তর। তাঁদের এক সপ্তাহের সময় দেওয়া হয়েছে। অবসরে যাওয়া আরেকজন বিচারপতিকে আগামী মাসের মধ্যে বাড়ি ছেড়ে দিতে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সাবেক চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদকে ৩৯ মিন্টো রোডের বাংলোবাড়ি ছেড়ে দিতে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে গত ডিসেম্বরে পদত্যাগ করা উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব নিজেদের বাংলোবাড়ি ছেড়ে দিয়েছেন।
সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, যেসব উপদেষ্টা এখন বাংলোবাড়িতে থাকছেন, তাঁরা শিগগির ছেড়ে দেবেন। সব মিলিয়ে ২৪টি বাংলোবাড়ি খালি হবে।
অন্যদিকে বেইলি রোডের মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্ট-৩–এ এখন ৫টি অ্যাপার্টমেন্ট খালি আছে। এ তথ্য জানিয়ে সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন, আরও ৭টি অ্যাপার্টমেন্ট কয়েক দিনের মধ্যে খালি হয়ে যাবে।
গতকাল রোববার সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের কর্মকর্তারা মন্ত্রিপাড়ায় অবস্থিত বিভিন্ন বাংলোবাড়ি–অ্যাপার্টমেন্ট দেখতে যান। বাংলোবাড়ি–অ্যাপার্টমেন্টগুলোর কোনটার কী অবস্থা, কোথায় সংস্কার করতে হবে—এসব দিক তাঁরা দেখে এসেছেন।
২৯ নম্বর মিন্টো রোডে অবস্থিত বাংলোবাড়িটি বিরোধীদলীয় নেতার জন্য সংস্কার করা হচ্ছে বলে জানান সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের কর্মকর্তারা। তাঁরা বলেন, চাইলে সেখানে উঠতে পারবেন বিরোধীদলীয় নেতা।
সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন, বাংলোবাড়ি–অ্যাপার্টমেন্টগুলো সংস্কার করে পুরোপুরি প্রস্তুত করতে এক থেকে দুই মাস সময় লাগতে পারে। এরপরই সেগুলোয় উঠতে পারবেন নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা।
মঙ্গলবার সকাল ১০টায় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে ত্রয়োদশ সংসদের নতুন সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান হবে। তারা একইসঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদেরও সদস্য হবেন, সে কারণে তাদের আলাদা করে শপথ নিতে হবে।
সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের পর বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠকে সংসদ নেতা নির্বাচিত হবেন। এর মধ্যেই হবু সরকারপ্রধানের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ নেওয়ার জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ফোন করা শুরু হবে।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বিকাল ৪টায় নতুন প্রধানমন্ত্রী এবং এবং তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন।
শুক্রবার রাতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ২৯৯ আসনের মধ্যে ২৯৭টিতে জয়ীদের গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। বিএনপি ও মিত্র দলগুলো ২১২টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে।
অন্যদিকে তাদের এক সময়কার মিত্র জামায়াতে ইসলামী ৬৮ আসন পেয়ে বিরোধী দলের আসনে বসতে যাচ্ছে। অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বাকি আসনগুলোতে জয়ী হয়েছেন।






























